ঢাকা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে, কীভাবে হবে—যা বলছে সংবিধান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি : সংগৃহীত ছবি : সংগৃহীত

নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও দায়িত্ব নিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে এখন আলোচনায় এসেছে—রাষ্ট্রপতি পদে কোনো পরিবর্তন হবে কি না, আর হলে সেটি কবে এবং কীভাবে।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। সংবিধান অনুযায়ী, মেয়াদ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা পদত্যাগ বা অভিশংসনের মাধ্যমে পদ শূন্য না হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই।

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে বহাল থাকেন এবং তার কাছেই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদ তিনভাবে শূন্য হতে পারে—মেয়াদ শেষ হলে, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে অথবা অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত হলে। পদত্যাগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। আর অভিশংসনের জন্য সংসদে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার এ পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন। আর ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, মেয়াদোত্তীর্ণজনিত কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি জনগণের ভোটে নয়, সংসদ সদস্যদের ভোটে হয়। নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে তফসিল ঘোষণা করেন। ভোটগ্রহণ সংসদ অধিবেশন চলাকালীন অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়োজন হলে ভোটের কমপক্ষে সাত দিন আগে অধিবেশন আহ্বান করা হয়।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। মনোনয়নের ক্ষেত্রে একজন প্রস্তাবক ও একজন সমর্থক—দুইজন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। একক প্রার্থী হলে ভোটগ্রহণ ছাড়াই তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন বা সংসদে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু না হয়, তাহলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্ন সামনে আসবে না। বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির রয়েছে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদে’ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন হবে। সে প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান ব্যবস্থাই কার্যকর থাকবে।

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এখনই হচ্ছে না। পদ শূন্য না হলে নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক সুযোগও নেই। তাই আপাতত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও বিষয়টি নির্ভর করছে বর্তমান রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত ও সংসদের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর।



কমেন্ট বক্স