ঢাকা

‘কপাল খারাপ’ বলা কি ইসলামে জায়েজ?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি : সংগৃহীত ছবি : সংগৃহীত

দৈনন্দিন কথোপকথনে অনেকেই হতাশা কিংবা ব্যর্থতার পর বলেন—‘কপাল খারাপ’ বা ‘ভাগ্যই খারাপ’। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের মন্তব্য কতটা সঠিক? এ বিষয়ে কোরআন-হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ করেছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা, পাশাপাশি মনস্তত্ত্ববিদরাও দেখিয়েছেন এর নেতিবাচক প্রভাব।

ইসলামে ভাগ্য (তাকদির) বিশ্বাস একটি মৌলিক বিশ্বাস। এটি দুই প্রকার—
১. তাকদিরে মুবরাম: যা অপরিবর্তনীয়।
২. তাকদিরে মুআল্লাক: যা দোয়া, ভালো আমল ও চেষ্টা দ্বারা পরিবর্তিত হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "দোয়া আল্লাহর ফয়সালাকে পরিবর্তন করতে পারে এবং নেক আমল আয়ু বৃদ্ধি করে"। (তিরমিজি: ২১৩৯)

আবার কোরআনে বলা হয়েছে:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।" (সুরা রা'দ: ১১)

 ‘কপাল খারাপ’ বললে দ্বিমুখী ক্ষতি হয় ,১. আল্লাহর প্রতি অসন্তুষ্টি: এ ধরনের মন্তব্যে আল্লাহর নির্ধারণ ও হিকমতের প্রতি অস্বীকৃতি প্রকাশ পায়।
২. দায়িত্ব এড়ানো: ব্যর্থতার দায় নিজের ওপর না নিয়ে ভাগ্যের ওপর চাপানো হয়, যা নিষ্ক্রিয়তা বাড়ায়।

রাসুল (সা.) বলেছেন:
"তোমাদের কেউ যেন না বলে, ‘হায় আমার সময়টা খারাপ!’ কারণ সময়ের মালিক তো আল্লাহ নিজেই।" (সহিহ মুসলিম)

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন—এ ধরনের উক্তি আল্লাহর জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে অবজ্ঞা করার সামিল।


‘ভাগ্যকে দোষারোপ’ করলে মানসিক ক্ষতি হয় বলে জানিয়েছে Journal of Behavioral Science (2021)। তাদের গবেষণায় দেখা যায়—

এ ধরনের মানসিকতা মোটিভেশন প্রায় ৭৩% কমিয়ে দেয়।

হতাশা ও আত্মবিশ্বাস হ্রাস পায়, ফলস্বরূপ ব্যক্তি ভবিষ্যৎ প্রচেষ্টা থেকেও সরে আসে।


‘কপাল খারাপ’ না বলে একজন মুমিন বলবেন—

"ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" (দুঃখজনক ঘটনায়)

"হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’আমাল ওয়াকিল" (আস্থার সংকটে)

"আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জা'আলতাহু সাহলা" (কোনো কাজ সহজ করতে)

এ ছাড়া ধৈর্য (সবর) ধারণের নির্দেশ রয়েছে কোরআনে—
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গী।" (সুরা বাকারা: ১৫৩)


‘কপাল খারাপ’ বলা শুধুই একটি ভুল অভ্যাস নয়; বরং এটি ঈমানি দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি। ইসলাম শিক্ষা দেয়—আল্লাহর তাকদিরে সন্তুষ্ট থেকে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যেতে। কারণ, ভাগ্য আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়, কিন্তু আমল ও মনোভাব তো নিয়ন্ত্রণে আছেই।

সুতরাং, হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন, চেষ্টা চালিয়ে যান—কারণ কপাল নয়, সফলতা নির্ধারণ করেন আল্লাহই।



কমেন্ট বক্স