ঢাকা

জটা কেটে দেওয়া মানবসেবা নাকি বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি ; সংগৃহীত ছবি ; সংগৃহীত

রাস্তায় অসহায় মানুষকে গোসল করিয়ে, নখ-চুল কেটে, নতুন পোশাক পরিয়ে দেওয়ার মতো উদ্যোগগুলো দীর্ঘদিন ধরে মানবসেবার উদাহরণ হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশেও অসংখ্য তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবী দল এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। এসব কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে অনেককে অনুপ্রাণিতও করছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বাউল, ফকির বা আধ্যাত্মিক সাধকদের জটা কেটে দেওয়া এবং তাদের পোশাক পরিবর্তন করিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমালোচকদের মতে, এটি মানবসেবার আড়ালে ব্যক্তির বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

বাউল ও ফকিরদের কাছে জটা চুল বা ছেঁড়া গেরুয়া বস্ত্র কেবল সাজসজ্জা নয়, বরং সাধনা ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। তাই জোরপূর্বক সেগুলো কেটে ফেলা বা বদলে দেওয়া তাদের বিশ্বাসকে অসম্মান করার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিকভাবে অসুস্থ বা অসহায় মানুষের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এক ধরনের সেবা। কিন্তু যারা নিজস্ব ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক বিশ্বাসে নির্দিষ্ট জীবনযাপন করেন, তাদের অনুমতি ছাড়া পরিবর্তন করা উচিত নয়। মানবসেবা মানে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা নয়, বরং ব্যক্তির মর্যাদা ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো।

সমাজকর্মীরা মনে করছেন, সেবার লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষকে কষ্ট থেকে মুক্ত করা, তাদের জীবনধারা বদলে দেওয়া নয়। তাই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা কর্মীদের ভাষা ও আচরণে সংযমী হন এবং সাহায্যের আগে সবার বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে সম্মান করেন।



কমেন্ট বক্স