ঢাকা

দিনাজপুরে আছে মৃত প্রাণীদের জাদুঘর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি ; সংগৃহীত ছবি ; সংগৃহীত

দিনাজপুরে সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের একটি কক্ষে তৈরি করা ট্যাক্সিডার্মি জাদুঘর ভিজিটরদের কাছে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে মৃত প্রাণীর চামড়া রাসায়নিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে জীবন্ত প্রাণীর মতো উপস্থাপন করা হয়েছে। জাদুঘরে ১৬৬ প্রজাতির পাখি এবং চার শতাধিক মৃত প্রাণীর মডেল রাখা আছে।

জাদুঘরে দাঁড়িয়ে থাকা ‘মাছরাঙা’, ‘কাঠঠোকরা’, ‘ধলা বালিহাঁস’, ‘চড়ুই’ প্রভৃতি পাখি জীবন্তের মতো ভঙ্গিমায় সাজানো। পাশে দাঁড়ানো কুকুর, শিয়াল বা বেজি দেখে ভয় পাওয়ার প্রশ্নই আসে না—কারণ এরা মৃত।

জাদুঘরের ইতিহাস ১৯৫৭ সালে শুরু হয়। ইতালির নাগরিক ও শৌখিন প্রকৃতিবিদ গিওভ্যানি বারবে ধর্ম প্রচারের জন্য দিনাজপুরে আসেন। তিনি সেন্ট ফিলিপস হাইস্কুলের বিশপ হাউসে প্রথম ট্যাক্সিডার্মি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১৯৭২ সালে তিনি ইতালিতে ফিরে গেলে জাদুঘরটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে।

১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ হলে দিনাজপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জাদুঘরটি কলেজে স্থানান্তর করেন। পশ্চিম দেয়ালে ২২ ফুট উচ্চতা ও ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের আলমারিতে বিলুপ্তপ্রায় পাখিসহ নানা প্রজাতির ১৬৬টি পাখি রাখা আছে। এছাড়া পাঁচ শতাধিক কাঁচের বোতলে ফরমালিনে সংরক্ষিত সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, সামুদ্রিক মাছ, অক্টোপাস, গিরগিটি, বাদুড়সহ বিভিন্ন প্রাণী রয়েছে।

বর্তমানে অনেক নমুনা বিলুপ্তপ্রায়, লোম ও চামড়া বিবর্ণ, পরিচিতিমূলক কাগজ অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট ও বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করে নমুনার আসল রং ও বৈশিষ্ট্য পুনঃনির্ধারণ করছেন।

সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিভাগের প্রধান জেসমীন আরা বেগম বলেন, “জাদুঘরের নমুনাগুলো দেশের সম্পদ এবং শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। যদিও সঠিক সংরক্ষণ ব্যয়সাপেক্ষ, সরকারি উদ্যোগ ও নজরদারি জরুরি।”

জাদুঘরটি দিনাজপুরে প্রাণিবিদ্যা শিক্ষার জন্য একটি অনন্য শিক্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।



কমেন্ট বক্স