প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 18, 2026 ইং
আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে সবুজের বুক উঁকি দিচ্ছে স্বর্ণালী আভা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: ফাল্গুনে গাছে আমের মুকুল সুভাস ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ। মৌমাছিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই কুহুতানে মাতাল করতে আবারও আসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। বাগানে ছোট-বড় আম গাছে ফুটতে শুরু করেছে নতুন মুকুল। মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। যে ঘ্রানে মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।
আবহমান গ্রামবাংলায় সাধারণত আগাম জানান দেয় তার আগমনী বার্তা। তেমনি ঋতুরাজ বসন্তের আগে- ভাগে এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আম গাছে আমের মুকুল জানান দিচ্ছে মধু মাসের আগমনী বার্তার।
নাচোল উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিন দেখা যায়, বাগান, বাড়ির আঙ্গিনায়,পুকুরপারে রাস্তার কিনারে সর্বত্রই আম গাছগুলো তার মুকুল নিয়ে হলুদ রঙ ধারণ করতে চলেছে। ধীরে-ধীরে আমের মুকুলে ছেয়ে যাচ্ছে গাছের প্রতিটি ডাল। সৌন্দর্য বাড়তে শুরু করেছে প্রকৃতির।
উপজেলার আম চাষীরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে বসন্তের আগেই আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। তবে মাঘ মাস প্রায় শেষ এখন প্রতিটি গাছে পুরোপুরিভাবে মুকুল ফুটবে। তারা আরও জানান, উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হয় এছাড়াও স্থানীয়রা বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে বিভিন্ন প্রকার চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করে থাকেন।
স্হানীয়রা আরও জানান, আমের মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা। কুয়াশার কারণে আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। তবে আমের মুকুল আগে পরে যে আবহাওয়া প্রয়োজন তা এখনো বিরাজমান রয়েছে। এবার আবহাওয়ার কারণে আম গাছে আগাম মুকুল এসেছে। ভালোভাবে পরিচর্যা করা হলে ফলন ভালো হবে।
উপজেলা কসবা ইউনিয়নের আখিলা গ্রামের আম চাষী তাজামুল হক কালইর গ্রামের নিকাস দাস এ প্রতিবেদককে জানান, ফাগুন মাসের আগেইর দিকে আম গাছে আমের মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। এবার আমের মুকুল অন্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি ফুটেছে। বৃষ্টির জন্য অনেক মুকুল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের খোলসি গ্রামের আব্দুল আলিম ডিসিবি'কে বলেন, অন্যবারের চেয়ে কিছুটা আগে এসেছে মুকুল। মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সলেহ্ আকরাম প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, এবার গরমের আগেই চলে এসেছে গাছে মুকুল। কিছু কিছু গাছে মাথা ফাটছে। আবার কিছু কিছু গাছে মুকুল এসেছে। আমের মুকুল আসার পূর্বে গাছে পানি ছিটিয়ে পাতাগুলো ধুয়ে দিতে হয়। আমের মুকুল যখন গুটি দানার মতো হয় তখন ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হয়। এবার উপজেলায় ৪৪০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। আমের ফলন বেশি বেশি পেতে হলে যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে বলেও জানান তিনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News