
হিজরি বর্ষের শেষ মাস জিলহজ ইসলাম ধর্মে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এই মাসের ৯ তারিখকে বলা হয় ‘ইয়াউমুল আরাফা’ বা আরাফার দিন। এটি হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন, যখন হাজিরা মক্কার আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন। আরাফার দিন রোজা রাখার রয়েছে অত্যন্ত ফজিলত, বিশেষ করে যারা হজে যেতে পারেননি, তাদের জন্য এই রোজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। সাহাবারা জিজ্ঞেস করেছিলেন, “জিহাদও কি নয়?” রাসুল (সা.) বলেছিলেন, “জিহাদও নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যতিক্রম, যে নিজের জান-মালের ঝুঁকি নিয়ে জিহাদ করে এবং কিছুই ফিরে পায় না।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯১৮)
বিশেষভাবে আরাফার রোজার ফজিলত উল্লেখ করে রাসুল (সা.) বলেছেন,
“আমি আশা করি, আরাফাতের রোজা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬১৭)
১. স্থানীয় চাঁদ অনুসরণে ৯ জিলহজে রোজা রাখা—যেদিন আপনার দেশে ৯ জিলহজ হবে, সেদিনই আরাফার রোজা।
২. মক্কার হজের দিন অনুসরণে রোজা রাখা—বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেন, মক্কায় যেদিন আরাফার দিন, সেদিনই রোজা রাখতে হবে। বেশিরভাগ আলেম, যেমন শায়খ আহমাদুল্লাহ এ অভিমতের পক্ষে মত দেন।
কারণ, হজ হচ্ছে নির্দিষ্ট স্থান ও সময়সংশ্লিষ্ট একটি ইবাদত, যা কেবল মক্কাতেই অনুষ্ঠিত হয়। সারা দুনিয়ায় মুসলিমরা হজের দিনের (আরাফার দিন) ফজিলতের অংশ হতে সেই দিনেই রোজা রাখবেন—এটাই অধিকাংশ বিদ্বানদের অভিমত।
তবে সর্বশেষ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই আরাফার দিন নির্ধারিত হবে। সে অনুযায়ী রোজার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা।