
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানে যেকোনো সময় মার্কিন হামলার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এ বিষয়ে একাধিক বিকল্প রয়েছে। তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানে, তাহলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলায় খামেনি নিহত হলে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরাধিকার ও জরুরি কমান্ড ব্যবস্থাসহ একাধিক বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সম্প্রতি দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে খামেনি তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার আলি লারিজানিকে কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। কার্যত তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ পর্যায়ে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা, বিপ্লবী গার্ডের সদস্য এবং সাবেক কূটনীতিকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, লারিজানি বিক্ষোভ দমন তদারকি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক কূটনীতি এবং রাশিয়া, কাতার ও ওমানসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে যুদ্ধকালীন পরিকল্পনাও তিনি দেখভাল করছেন।
টাইমস অব ইসরায়েল আরও জানিয়েছে, খামেনি সামরিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য একাধিক স্তরের উত্তরসূরি পরিকল্পনা তৈরি রেখেছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বা তিনি নিহত হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ আস্থাভাজন চক্রের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে।
এদিকে ইরান তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। ইরাক সীমান্ত ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পাশাপাশি সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতিতে সামরিক মহড়া চালানো হচ্ছে। যেকোনো হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খামেনি।