গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং প্রদর্শিত বিজ্ঞান প্রজেক্ট ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, উপজেলার বামনডাঙ্গা শিশু নিকেতন অ্যান্ড মডেল হাই স্কুলের একদল শিক্ষার্থী মেলায় একটি স্টলের মাধ্যমে তাদের উদ্ভাবিত বিজ্ঞান প্রজেক্ট প্রদর্শন করছিল। এ সময় সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান কিছু শিক্ষার্থী ওই স্টলে এসে উপস্থিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা স্টলে থাকা এক ছাত্রীকে তার মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক আইডি দিতে বলে। তবে ছাত্রীটি এতে অস্বীকৃতি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি তখনকার মতো শেষ হলেও অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ৫ থেকে ১০ জন যুবক তাদের পথরোধ করে। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং মারধর করে। হামলার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকা বিজ্ঞান প্রজেক্ট ভাঙচুর করা হয়।বামনডাঙ্গা শিশু নিকেতন অ্যান্ড মডেল হাই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম বলেন, “আমরা মেলায় প্রজেক্ট প্রদর্শন করছিলাম। কিছু ছেলে এসে আমাদের কাছে মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক আইডি চায়। আমরা না দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়। পরে ফেরার পথে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং প্রজেক্ট ভেঙে ফেলে।”
এ ঘটনায় আহত এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি।
এ বিষয়ে বামনডাঙ্গা শিশু নিকেতন অ্যান্ড মডেল হাই স্কুলের পরিচালক মোঃ নুর আলম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।