চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইদংকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলমান প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
চীনের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, স্টেট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে কেন তাকে সরানো হয়েছে বা কবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সান ওয়েইদংয়ের সর্বশেষ প্রকাশ্য কার্যক্রম ছিল গত ১৩ মার্চ। ওইদিন তিনি চীনে নিযুক্ত ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর দুই দিন আগে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
একই বিজ্ঞপ্তিতে চীনের জাতীয় রেল প্রশাসনের উপ-পরিচালক আন লুশেংকেও তার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে ২০১২ সাল থেকে চীনে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে, যা ‘টাইগারস অ্যান্ড ফ্লাইজ’ নামে পরিচিত। এই অভিযানে উচ্চ ও নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে এক মিলিয়নের বেশি দুর্নীতির মামলা তদন্ত করা হয়েছে এবং প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চীনের দুর্নীতিবিরোধী এই অভিযানে প্রাদেশিক, জেলা এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তার পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ সদস্যরাও শাস্তির আওতায় এসেছেন।