জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আজ দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র তেজগাঁও কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তায় দিনভর সরব ছিল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। তবে সেবামূলক এই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার ২৫ এপ্রিল সকাল থেকেই তেজগাঁও কলেজ প্রাঙ্গণে ছিল পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড়। তীব্র গরমে হাঁপিয়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের স্বস্তি দিতে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে নিষিদ্ধ মোবাইল, মানিব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদে রাখতে 'হেল্প ডেস্ক' কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, তেজগাঁও কলেজ।
ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং প্রয়োজনীয় বই-খাতা নিরাপদে রাখার জন্য ছাত্রশিবির 'অতন্ত্র প্রহরী'র মতো দায়িত্ব পালন করেছে এবং বিনামূল্যে প্রায় ২,০০০ ব্যাগ ও মোবাইল জমা রাখার সেবা প্রদান সহ প্রচণ্ড গরমে পরীক্ষার্থীদের ক্লান্তি দূর করতে বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ হিসেবে কলম ও সাংগঠনিক লিফলেট প্রদান করা হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের বিশ্রামের কথা চিন্তা করে ছায়াযুক্ত স্থানে চেয়ার-টেবিলের মাধ্যমে আরামদায়ক বসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত ছাত্রশিবির তেজগাঁও কলেজ।
তবে দুপুরের দিকে কেন্দ্রে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায় একদল বিরোধী পক্ষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় মোবাইল হারানোর গুজব।
সরাসরি কথা বললে এক পরীক্ষার্থী জানান "ভিড়ের চাপে কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আমরা আমাদের আমানত ঠিকভাবেই ফেরত পেয়েছি। শিবির কর্মীরা যেভাবে ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি সামলেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে।"
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির মহানগর পশ্চিমের কলেজ সম্পাদক ইজাজ আহমেদ জানান, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে একটি ফোনের স্ক্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেটি সংগঠনের পক্ষ থেকে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে এবং হারিয়ে যাওয়া একটি বইও কিনে দেওয়া হয়েছে।
মহানগর পশ্চিমের সভাপতি হাফেজ আবু তাহের এক কড়া বিবৃতিতে বলেন—
"শিক্ষার্থীদের হাতে পানি ও নিরাপত্তা তুলে দিয়েছে শিবির, আর প্রতিপক্ষ বেছে নিয়েছে মিথ্যা ও অপপ্রচারের পথ। ভিডিও এডিট করে গুজব ছড়িয়ে তারা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের পরিচয় দিচ্ছে।"
তেজগাঁও কলেজ সভাপতি নাজমুল হোসেন তার বিবৃতিতে বলেন: "আমাদের ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চাপ থাকায় শেষ মুহূর্তে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত কষ্টের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমা প্রার্থী। ভবিষ্যতে এ ধরনের সেবা কার্যক্রমে আমরা আরও বেশি সতর্ক ও সুসংগঠিত থাকার ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করব।"
ভিড়ের চাপে একটি মোবাইলের স্ক্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে এবং হারিয়ে যাওয়া একটি বই নতুন করে কিনে দিয়ে ছাত্রশিবির তাদের সর্বোচ্চ নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।