প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 26, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 26, 2026 ইং
মোটরসাইকেল তরুণ-কিশোরদের জন্য মরণফাঁদ

সড়কে প্রাণহানির বড় অংশই এখন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, মোট সড়ক মৃত্যুর ৩৮.৩৪ শতাংশ ঘটছে মোটরবাইক দুর্ঘটনায়—যা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক তরুণ ও কিশোরদের জন্য।
গত পাঁচ বছরে দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এদের বড় অংশই ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ। দ্রুতগতি ও রোমাঞ্চের নেশা অনেকের জন্য পরিণত হচ্ছে মৃত্যুফাঁদে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন–এর তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত মার্চ মাসেই দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত এবং ২,২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২০৪ জনই মোটরসাইকেল আরোহী, যা মোট মৃত্যুর ৩৮.৩৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) জানায়, প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসে, যার অন্তত ৩০ শতাংশই মোটরবাইক দুর্ঘটনার শিকার—এদের বড় অংশ কিশোর ও তরুণ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ বলছে, দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বেপরোয়া গতি, রাতের বেলায় রেসিং, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং অনুপযুক্ত বা ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এছাড়া, কম বয়সে লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোও বড় একটি ঝুঁকি।
আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয় না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক অভিভাবক সন্তানের আবদার রাখতে গিয়ে অল্প বয়সেই মোটরসাইকেল কিনে দিচ্ছেন। ফলে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের মধ্যে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহুরে জীবনে দ্রুত চলাচলের মাধ্যম হলেও মোটরসাইকেল এখন কিশোরদের জন্য এক “নীরব মৃত্যুফাঁদ”। এমনকি সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এই বয়সসীমার প্রায় ৭০ শতাংশ দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পেছনে মোটরসাইকেল জড়িত।
এদিকে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানায়, মোটরসাইকেল এখন কিশোর অপরাধেরও একটি মাধ্যম হয়ে উঠছে। মাদক পরিবহন, গ্যাং কার্যক্রম, ইভটিজিং ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন—
শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কারণ, প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ও দায়িত্ববোধ ছাড়া মোটরসাইকেল হাতে তুলে দেওয়া মানেই ঝুঁকিকে আমন্ত্রণ জানানো—নিজের জন্যও, অন্যদের জন্যও।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News