প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 26, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 26, 2026 ইং
নাট্যকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার আটক শিক্ষক

নাট্যকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর (২৬) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে বাড্ডা থানা–পুলিশ। আজ সকাল আটটায় দিকে বাড্ডার বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছেন তাঁরা।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘তিনি (মিমো) সচরাচর দরজা খোলা রেখে ঘুমান। ফজরের আজানের পর দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ধাক্কাধাক্কি করেন। তবে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।’
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান আসাদুজ্জামান। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করেছে বাড্ডা থানা–পুলিশ।
বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান বলেন, গতকাল রাতে একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। কল হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন সুদীপ। আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছি, ঘটনার সঙ্গে সুদীপ চক্রবর্তীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। ফলে তাঁকে আটক করা হয়।’
এর আগে বাড্ডা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেছে মিমোর পরিবার। মিমোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন কাজী তামান্না হক।
এক শোকবার্তায় তামান্না হক লিখেছেন, ‘এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা শোকে আচ্ছন্ন। আমরা চাই, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।’
মুনিরা মাহজাবিন একটি চিরকুটে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী ছাড়াও তাঁর ঘনিষ্ঠ এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ করে গেছেন বলে বিভাগের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। তাতে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভাল থাকো, স্যারের দেয়া গিফটগুলো ফেরত দেয়া।’
এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিরকুটে আমাদের বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী এবং মুনিরা মাহজাবিনের সহপাঠী উম্মে হানি, এই দুজনের নাম পাওয়া গেছে। বিস্তারিত ঘটনা সম্পর্কে আমরা আজকেই জানলাম।’
নাট্যকর্মী হিসেবে পরিচিত মিমোকে নির্দেশনা দিতেও দেখা গেছে। মৃত্যুর ঘটনায় নাট্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নাট্যকর্মী মহসিনা আক্তার লিখেছেন, ‘আহারে মিমো।’
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News