প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 27, 2026 ইং
হজ পালনের পাশাপাশি ধর্মীয় নিদর্শন দেখতে আগ্রহী বিশ্বের মুসলিমরা

মক্কা পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র নগরী হিসেবে পরিচিত। ইসলামের কেন্দ্রবিন্দু কাবা শরিফ-কে ঘিরেই গড়ে উঠেছে এই শহর। এখানেই জন্মগ্রহণ করেন হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরেরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করেছেন।
প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসল্লি সৌদি আরব-এর মক্কায় হজ পালনের উদ্দেশ্যে সমবেত হন। হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পাশাপাশি অনেক হজযাত্রী শহরের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখেন।হজ ও ওমরাহর মূল আকর্ষণ কাবা শরিফ। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, এটি ফেরেশতাদের মাধ্যমে প্রথম নির্মিত হয় এবং পরে ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে পুন:নির্মাণ করেন।
কাবা শরিফের নিকটবর্তী সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয় হজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে হাজেরা (আ.) তাঁর সন্তানের জন্য পানির সন্ধানে দৌড়েছিলেন, যা আজ ‘সাঈ’ হিসেবে পালন করা হয়।কাবা প্রাঙ্গণে অবস্থিত মাকামে ইবরাহিম-এ সংরক্ষিত রয়েছে ইবরাহিম (আ.)-এর পায়ের ছাপ। একইসঙ্গে কাবার কোণে স্থাপিত হাজরে আসওয়াদ মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।
এছাড়া জমজম কূপ, হাতিমে কাবা এবং মিজাবে রহমত—এসব স্থানও হজযাত্রীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মক্কার ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে জাবালে নুর উল্লেখযোগ্য, যেখানে অবস্থিত হেরা গুহায় প্রথম ওহি নাজিল হয়। পাশাপাশি জাবালে সাওর হিজরতের স্মৃতিবিজড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।মসজিদগুলোর মধ্যে মসজিদে জিন, মসজিদে আয়েশা এবং মসজিদে খায়েফ ধর্মীয় তাৎপর্যের জন্য সুপরিচিত।হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফা এবং মিনা-তে। এর মধ্যে আরাফাতের জাবালে রহমত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া জান্নাতুল মুআল্লা কবরস্থান এবং মক্কা জাদুঘর শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানার গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত।ধর্মীয় গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে মক্কার এসব স্থান মুসলিম বিশ্বের কাছে অনন্য মর্যাদা বহন করে এবং প্রতি বছর লাখো মানুষের আগমনে মুখরিত থাকে পবিত্র এই নগরী।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News