প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 27, 2026 ইং
ইরান সংঘাতে বাড়ছে প্রযুক্তিপণ্যের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান-সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটায় ইলেকট্রনিক পণ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (পিসিবি)-এর কাঁচামালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং এআই সার্ভারসহ প্রায় সব ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্যেই ব্যবহৃত পিসিবির উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এর ফলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি নির্মাতাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ তারা আগে থেকেই মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাচ্ছিল। এখন সংঘাতের কারণে তেল, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন কাঁচামালের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
গোল্ডম্যান স্যাকস-এর বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চের তুলনায় এপ্রিল মাসে পিসিবির দাম সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গত বছরের শেষ দিক থেকে এআই সার্ভারের চাহিদা বাড়তে থাকায় এ খাতে মূল্যবৃদ্ধির ধারা শুরু হয়, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁচামাল মজুতের প্রতিযোগিতা এবং সরবরাহ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ক্লাউড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও ভবিষ্যতে আরও বেশি দামে পণ্য কিনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে, কারণ চাহিদা সরবরাহকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পিসিবি নির্মাতা দেদুক ইলেক্ট্রনিকস ইতোমধ্যে তাদের ক্রেতাদের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গ্রাহকদের মধ্যে স্যামসাং-এর মতো বড় কোম্পানিও রয়েছে।
এদিকে গ্লাস ফাইবার ও কপার ফয়েলের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। চলতি বছরে কপার ফয়েলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা পিসিবি উৎপাদন ব্যয়ের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক বাজারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News