প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 27, 2026 ইং
ছাত্রদলের দলীয় কর্মসূচির অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ক্লাস পরীক্ষা বর্জন

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদলের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিকে ঘিরে মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১টায় ক্যাম্পাসের শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের সামনে শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা সকল ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে ছাত্রদল বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি আয়োজন করছে এবং শিবির গুপ্তভাবে রাজনীতি করছে। তবুও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে ‘গুপ্ত রাজনীতির’ বিরুদ্ধে দেয়াল লিখন করা হচ্ছে।
ঘটনার সূচনা, ছাত্রদলের গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে দেয়াল লিখনের পর রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গুপ্ত রাজনীতির পাশাপাশি প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধেও দেয়াল লিখন করে। ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু শিক্ষার্থী ওই ব্যানার খুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয় এবং ‘রুয়েট জাতীয়তাবাদী স্পন্দন’ নামে একটি ফেসবুক পেজে তা প্রচার করলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, এর আগে পহেলা বৈশাখে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ছাত্রদলের ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে। স্বাধীনতা দিবসে ছাত্রদলের ব্যানারে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুষ্পস্তবক অর্পণ করলে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
মধ্যরাতের বিক্ষোভে এক পক্ষে ‘শহিদ জিয়ার গড়া দল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’, ‘জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই করো’সহ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়।
অন্য পক্ষে, ‘ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা, এই রুয়েটে হবে না’, ‘নো মোর পলিটিক্স’, ‘ছাত্ররাজনীতির কালো হাত ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, ‘টোকাই, টোকাই’, ‘নো পলিটিক্স ইন রুয়েট’ প্রভৃতি স্লোগান দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) রুয়েটে সকল ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হয়েছে। এছাড়াও দুপুর দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ রবিউল ইসলাম সরকার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ছাত্ররাজনীতি ইস্যুতে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনা ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে উদ্বেগ ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News