যশোরে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুর ২টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
এর আগে ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার যশোরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেয় এবং শহরের দক্ষিণে হরিণার বিলে প্রায় ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকে। পরে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয় এবং অস্থায়ীভাবে যশোর জেনারেল হাসপাতাল ভবনে কলেজের কার্যক্রম চালু করা হয়। ২০১৬ সালে নিজস্ব ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও আলাদা হাসপাতাল নির্মাণ এগোয়নি।
দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট একনেক সভায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০২৫ সালের জুনে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পে গতি আসে। এরপর বর্তমান সরকারের সময়ে নির্মাণ কাজে নতুন করে অগ্রগতি শুরু হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও শেষ বর্ষের কার্যক্রমের জন্য তাদের নিয়মিত হাসপাতালে যেতে হয়, যা বর্তমানে বেশ কষ্টসাধ্য। তাদের মতে, নিজস্ব হাসপাতাল চালু হলে চিকিৎসা শিক্ষার মান বাড়বে এবং যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলোর প্রায় ৮০ লাখ মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির আওতায় ১০ তলা বিশিষ্ট ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি থাকবে শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের হোস্টেল, নার্সিং কলেজ ও হোস্টেল, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আবাসন, ৫০০ আসনের মিলনায়তন, মসজিদ এবং একটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
এর আগে একই দিন প্রধানমন্ত্রী যশোরের শার্শা উপজেলায় উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন।