প্রিন্ট এর তারিখঃ May 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 28, 2026 ইং
জম্মু-কাশ্মীরে মাদ্রাসা নিষিদ্ধ, ক্ষোভে ফুঁসছে নেতারা

ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীর-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী মাদ্রাসাকে বেআইনি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, দক্ষিণ কাশ্মীরের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া সিরাজ-উল-উলুম-কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জম্মু ও কাশ্মীর বোর্ড অব স্কুল এডুকেশন দ্বারা স্বীকৃত ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাশ্মীরের বিভাগীয় কমিশনার আনশুল গার্গ পুলিশের একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ জারি করেন। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, মাদ্রাসাটির সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন জামায়াতে ইসলামী-এর গোপন সম্পর্ক রয়েছে।
পুলিশের নথিতে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষকরা ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং ভূমি ব্যবহার ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ভারতের বহুল আলোচিত অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর আওতায়। সমালোচকদের মতে, এই আইন কর্তৃপক্ষকে প্রমাণ ছাড়াই কাউকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ দেয়।তবে মাদ্রাসাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফি লোন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ আইন মেনে পরিচালিত হয় এবং নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, কাশ্মীরের সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহেদী এই পদক্ষেপকে কাশ্মীরের সামাজিক কাঠামোর ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি পরিকল্পিতভাবে নাগরিক সমাজকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা।
কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি-ও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, প্রমাণ ছাড়াই জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ করা দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতি বড় ধরনের অবিচার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কাশ্মীরের বিদ্যমান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News