অস্ট্রেলিয়ায় এক নারীর বিরুদ্ধে নিজের ছেলের ক্যান্সারের ভুয়া গল্প সাজিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারীকে চার বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন স্থানীয় আদালত।
ঘটনাটি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার। জানা গেছে, ৪৫ বছর বয়সী ওই নারী- আইনি কারণে যার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি- নিজের ছয় বছর বয়সী ছেলের মাথা ও ভ্রু কামিয়ে, মাথা ও হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে এবং ওষুধ প্রয়োগ করে তাকে গুরুতর অসুস্থ হিসেবে উপস্থাপন করতেন। এর মাধ্যমে তিনি পরিবার, বন্ধু এবং পরিচিতদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার অনুদান সংগ্রহ করেন।
আদালতে তিনি সন্তানের ক্ষতির সম্ভাবনা সৃষ্টি করার একটি অভিযোগ এবং প্রতারণার ১০টি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
বুধবার রায় ঘোষণার সময় জেলা আদালতের বিচারক তার কর্মকাণ্ডকে ‘নিষ্ঠুর’, ‘পরিকল্পিত’ ও ‘প্রতারণামূলক’ বলে মন্তব্য করেন।
আদালতে জানানো হয়, এক দুর্ঘটনার পর শিশুটিকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়। এরপরই ওই নারী তার স্বামী, পরিবার ও স্কুল সম্প্রদায়ের কাছে দাবি করেন, তার ছেলে চোখের ক্যান্সারে আক্রান্ত।
এই দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি ছেলেকে হুইলচেয়ারে বসতে বাধ্য করেন এবং তার দৈনন্দিন কার্যক্রম সীমিত করে দেন, যেন মনে হয় সে রেডিয়েশন চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়া তাকে ব্যথানাশক ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সাপ্লিমেন্টও দেওয়া হতো।
অভিযোগকারী পক্ষ আদালতে জানায়, ওই নারী ‘নিজের ছেলেকে প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন’ এবং সংগৃহীত অর্থ দিয়ে পরিবারকে ‘ধনী ও বিলাসী’ জীবনযাপন করিয়েছেন।
ওই নারীর আইনজীবী আদালতকে জানান, কোভিড-১৯ মহামারীর পর তিনি জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন এবং আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে ছেলের দুর্ঘটনাকে কাজে লাগান। তবে তিনি কখনও ছেলের ক্ষতির উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও কাজ করেননি।
আইনজীবী আরও বলেন, তিনি সীমার বাইরে ব্যয় করছিলেন এবং পরিবারের জন্য সর্বাধুনিক ব্র্যান্ডের জিনিসপত্র কেনার ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর ধারণা’ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেন। পরে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন এবং তার ‘বর্ডারলাইন পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার’ ধরা পড়ে।
প্রাথমিকভাবে ওই নারীর স্বামীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়। বিবৃতিতে ওই নারীর স্বামী বলেন, “আমার স্ত্রী আমাদের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি তাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করতাম, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমি যেন দাবার গুটির মতো ব্যবহৃত হয়েছি।”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমার সন্তানদের সঙ্গে যা হয়েছে, তার জন্য কোনও শাস্তিই যথেষ্ট নয়।”
আদালত ওই নারীকে চার বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে আগামী বছরের এপ্রিল থেকে তিনি প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সূত্র: বিবিসি