প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং
বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপির সম্ভাব্য এগিয়ে থাকা, তবু হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষা। অধিকাংশ জরিপেই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-কে এগিয়ে রাখা হলেও, তৃণমূল কংগ্রেস (তৃণমূল)-এর সঙ্গে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে প্রায় সব ক্ষেত্রেই।
২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি অনেক ক্ষেত্রেই এই সংখ্যার কাছাকাছি বা তার ওপরে পৌঁছতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে কিছু জরিপে তৃণমূলকেও স্পষ্টভাবে এগিয়ে রাখা হয়েছে, যা ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রেখেছে।
ম্যাট্রিজ়ের সমীক্ষায় বিজেপি ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন পেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তৃণমূলের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ১২৫ থেকে ১৪০। অন্যদিকে, চাণক্য স্ট্র্যাটেজির হিসাব অনুযায়ী বিজেপি ১৫০-১৬০টি আসন পেতে পারে এবং তৃণমূল ১৩০-১৪০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
তবে পিপল্স পাল্সের সমীক্ষায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে তৃণমূলকে ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে এবং বিজেপির সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৯৫ থেকে ১১০। একইভাবে জনমত পোল্সও তৃণমূলকে স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে দেখিয়েছে।
অন্য কয়েকটি সমীক্ষা—যেমন পি-মার্ক, প্রজা পোল এবং পোল ডায়েরি—বিজেপির পক্ষে ঝুঁকেছে, যেখানে দলটি ১৪০-এর বেশি আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। আবার জেভিসি-র সমীক্ষায় দুই প্রধান দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল, যেখানে বিজেপি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসে। তবে বুথফেরত সমীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় চূড়ান্ত ফলাফলের আগে কোনও পক্ষই নিশ্চিতভাবে জয় দাবি করতে পারছে না।
দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্যে ভোটদানের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী গণনা দিবসেই স্পষ্ট হবে, বুথফেরত সমীক্ষার পূর্বাভাস কতটা বাস্তবের সঙ্গে মেলে এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার মসনদে বসবে কোন দল।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News