প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং
ঝিনুকের খোলসের ছবিকে ঘিরে বিতর্ক, ট্রাম্পকে হুমকির অভিযোগে আইনি চাপে জেমস কোমি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ছবি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। সমুদ্রসৈকতে ঝিনুকের খোলস দিয়ে সাজানো ‘৮৬ ৪৭’ সংখ্যার একটি ছবি শেয়ার করার জেরে সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি-এর বিরুদ্ধে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোমি কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও পোস্টটি প্রকাশের কিছু সময় পরই তিনি সেটি মুছে ফেলেন এবং পরবর্তীতে ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, সংখ্যাগুলোর সঙ্গে সহিংসতার কোনো অর্থ তিনি জানতেন না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘৮৬’ শব্দটি ইংরেজি স্ল্যাংয়ে ‘সরিয়ে ফেলা’ বা আরও কঠোর অর্থে ক্ষতি করার ইঙ্গিত দিতে পারে। সে প্রেক্ষিতে ‘৪৭’ সংখ্যাটি যুক্ত হয়ে এটি ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সহিংসতার বার্তা বহন করতে পারে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তবে কোমি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, পুরো বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তার আইনজীবীও জানিয়েছেন, মামলাটি খারিজের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
ভার্জিনিয়ার একটি আদালতে প্রাথমিক শুনানিতে কোমি নিজে কোনো বক্তব্য দেননি। বিচারক অভিযোগগুলো পড়ে শোনান এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।
এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, কোমি সচেতনভাবে প্রেসিডেন্টের প্রাণহানির হুমকি দিয়েছেন, যা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কোমিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন এবং বলেন, ‘৮৬’ শব্দটির অর্থ তিনি ভালোভাবেই জানতেন।ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি মহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ অভিযোগের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার অনেকে বলছেন, জননিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে এমন বার্তার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।
সূত্র : বিবিসি
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News