বালিয়াডাঙ্গী: একটি বেসরকারি টেলিভিশনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর সংবাদের জেরে বিপাকে পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার জ্বালানি ব্যবসায়ী আশরাফ আলী। তিনি দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের এজেন্ট হিসেবে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
(০৫ মে) মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ আলীর ছেলে সুমন অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম ভুল তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ প্রকাশ করায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তিনি জানান, ডিজেল ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য ভুলভাবে পেট্রোল ও অকটেন হিসেবে দেখানো হয়েছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট ডিপোতে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং সাময়িকভাবে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে আসছেন। চলতি সংকটের সময় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এপ্রিল মাসে প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে তারা ফসল রক্ষা করতে পারেন।”
সুমনের দাবি, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে একাধিকবার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করা হলেও সেই তথ্যগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। এছাড়া, তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন ট্রাক অন্যের নামে দেখানো এবং একটি বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানকে অস্তিত্বহীন বলে প্রচার করাকে তিনি ‘অপসাংবাদিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় জ্বালানির বড় একটি অংশ সরবরাহ করা হয় আশরাফ আলীর মাধ্যমে। উপজেলায় থাকা দুটি ফিলিং স্টেশন থাকলেও, অধিকাংশ ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা পূরণ করে তার প্রতিষ্ঠান। ফলে সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রায় দুই লাখ মানুষ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে সুমন বলেন, “আমরা গণমাধ্যমকে সম্মান করি। তবে আমাদের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন না করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানাচ্ছি।”