প্রিন্ট এর তারিখঃ May 13, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 13, 2026 ইং
কুকুরের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫, সুন্দরগঞ্জ জুড়ে আতঙ্ক

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এবার মৃত্যুর কাছে হার মানলেন মৃত আব্দুস সালামের স্ত্রী সুলতানা বেগম। এ নিয়ে একই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুলতানা বেগম অনেক আগেই স্বামীকে হারিয়ে বিধবা হন। অন্যের জমিতে কাজ করে কষ্টের উপার্জনে ছেলে-মেয়েকে মানুষ করার চেষ্টা করছিলেন। বিশেষ করে মেয়েকে নিয়ে ছিল তার অনেক স্বপ্ন। তার মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। কিন্তু পরীক্ষা চলাকালীন সময়েই মাকে হারাতে হলো তাকে।
১২ নং কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের মিজানুর রহমান বলেন, “পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। একটি বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে রয়েছে, কিন্তু বাবা-মা কেউই বেঁচে নেই। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মাননীয় এমপি মহোদয়ের প্রতি অনুরোধ, যেন এই পরিবারের পাশে দাঁড়ান।”
কনটেন্ট ক্রিয়েটর মঞ্জুয়ারা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে বলেন, “সুলতানা চাচী অনেক কষ্ট করে মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছিলেন। মেয়ের এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পাগলা কুকুরের কামড়ে তাকে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হলো। সবাই সুলতানা চাচীর জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন।”
এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ঝাকুয়া পাড়া এলাকার আফরোজা বেগম। তিনি পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। স্বজনদের দাবি, কুকুরে কামড়ানোর পর তিনি সম্পূর্ণ র্যাবিস ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এরপরও অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
এর আগে একই ঘটনায় কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের নন্দ রানী (৫৫), ফুলু মিয়া এবং রাজমিস্ত্রি রতনেশ্বর কুমারের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ সুলতানা বেগমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এখন শিশুদের বাইরে বের হতে দিচ্ছেন না অনেক পরিবার। সন্ধ্যার পর মানুষের চলাচলও কমে গেছে। পাগলা কুকুরের আতঙ্কে পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও শঙ্কা বিরাজ করছে।
আক্রান্তদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত র্যাবিস ভ্যাকসিন না থাকায় অনেককে অতিরিক্ত দামে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত পর্যাপ্ত র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ, আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News