প্রিন্ট এর তারিখঃ May 13, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 13, 2026 ইং
জাবি ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, মামলা দায়ের

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল ও আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (৫১তম আবর্তন) শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। ঘটনার পর তাঁকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১১টার কিছু পর ওই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের একটি সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তাঁকে অনুসরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং পাশের বিশমাইল এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন তিনি।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি কাপড় বা জালসদৃশ বস্তু দিয়ে শিক্ষার্থীর গলা পেঁচিয়ে তাঁকে পাশের ঝোপে টেনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীর চিৎকার শুনে মোটরসাইকেলে যাতায়াতকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা তাঁকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানভীর হোসেন বলেন, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
ঘটনার পর রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা, প্রক্টরিয়াল বডি, নারী শিক্ষার্থী ও জাকসুর কয়েকজন নেতা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি শিক্ষার্থীকে ঝোপের দিকে টেনে নিয়ে যায়। ফুটেজের ভিত্তিতে আমরা প্রাথমিকভাবে একজনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।”
তিনি আরও জানান, রাতেই আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা সন্দেহভাজনের মুখ দেখতে পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। দ্রুত পরিচয় শনাক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ চলছে।”
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীর দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা। তাছাড়া এঘটনার প্রতিবাদ ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে বুধবার বিকাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীর এবং রাত ১০ টায় সাধারণ নারী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়া হয়েছে।
এবিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের দশ সদস্যের টিম বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়াতে কাজ করছে। তাদের সহায়তায় র্যাবও মাঠে নেমেছে। আশা করছি অতিদ্রুত অপরাধীকে ধরতে পারব।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News