প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 17, 2025 ইং
রায়ের আগে সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন জয়

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায় ঘোষণার আগে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহিংসতার দিকে যেতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে দলীয় নেতাকর্মীরা ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ঠেকিয়ে দেবে। অভিযোগ করেন, তার মায়ের বিরুদ্ধে মামলার রায় আগেই ঠিক করা হয়ে আছে এবং তা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে তারা নির্বাচন প্রতিহত করবে। তার ভাষায়, নির্বাচন আওয়ামী লীগ ছাড়া হতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নড়াচড়া না করলে নির্বাচনের আগেই বাংলাদেশে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়বে।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষিত হবে। রায় সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে। আগের দিন জয় দাবি করেন, তিনি জানেন রায়ের ফল কী হবে এবং তার মা ‘সম্ভবত মৃত্যুদণ্ড’ পেতে পারেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নিরাপদ আছেন এবং সেখানে তাকে রাষ্ট্রপ্রধানের মতো সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুখপাত্র জয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে বিচারকাজ চালাচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। মুখপাত্র বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই, কারণ দলটি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার না করে জবাবদিহি এড়াতে চাইছে। তার দাবি, সরকারের প্রথম লক্ষ্য উত্তেজনা কমানো এবং মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা।
৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে যান। ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রায় ১৪০০ জন নিহত হয় বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। এটি ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। টানা অস্থিরতায় তৈরি পোশাক খাতও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
রায় ঘিরে গত কয়েক দিনে ঢাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। রোববার একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তার আগে শহরের বিভিন্ন স্থানে ৩২টি বিস্ফোরণ ও কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ ঘটে। এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগের কর্মীদেরও আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৪০০-র বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে এবং জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
জয় বলেন, তিনি ও শেখ হাসিনা নিয়মিত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তার দাবি, সারা দেশে হরতাল ও বড় বিক্ষোভ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং তা আরও বাড়বে। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা উন্নয়নকাজের জন্য প্রশংসিত হলেও রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে। গত নির্বাচনে বিরোধীরা অংশ নেয়নি, আর এবার উল্টো পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক চাপে রয়েছে। জয় বলেন, তার মা এখন ক্ষুব্ধ ও হতাশ, তবে তারা লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News