প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 7, 2025 ইং
হাসিনাকে উদ্ধারে ভারত বিমানঘাঁটি ও কমান্ডো প্লাটুন প্রস্তুত রেখেছিল

পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সেনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ভাতিজা ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে। ১১ মাসের তদন্ত শেষে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার আগে ও পরে ভারতের সরাসরি সম্পৃক্ততার বেশ কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, India Today–এ ২০০৯ সালের ১৬ মার্চ প্রকাশিত “More than a Mutiny” শিরোনামের প্রবন্ধে সৌরভ শুকলা লিখেছিলেন, ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারির হত্যাযজ্ঞের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারত শেখ হাসিনাকে উদ্ধার করার প্রস্তুতি নেয়। ত্রিপুরার একটি ফরোয়ার্ড এয়ারবেসে দুটি দল এবং কলকাতায় একটি কমান্ডো প্লাটুন প্রস্তুত রাখা হয়। (সংযোজনী: ৫৭)
কমিশনের দাবি, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার আগে ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর পুরো নীলনকশা ঠিক করা হয়। এসব বৈঠকের বেশিরভাগই হয় তাপসের অফিস ও বাসায়। তাপসের অফিসে আয়োজিত এক বৈঠকে ভারতীয় গোয়েন্দা সদস্যদের উপস্থিতিতে হত্যাযজ্ঞের চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সাক্ষ্য–প্রমাণ বিশ্লেষণ করে কমিশন বলেছে, ভারতীয় কমান্ডো ও গোয়েন্দা সংস্থার ২৪ সদস্য সরাসরি এই ঘটনায় যুক্ত ছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ আছে, ঘটনার সময় ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ছিলেন তাপসের ফুপু। পরিবারটির আরেক সদস্য শেখ সেলিমও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে কমিশন নিশ্চিত হয়েছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজও পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত ছিলেন।
কমিশনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভারতের সহায়তায় ক্ষমতায় আসার পর মাত্র দুই মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সেনা কর্মকর্তাদের বিডিআরে পদায়ন করা হয়। রৌমারী, বড়াইবাড়ী ও পদুয়া সীমান্তে বিএসএফ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ, সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News