ঢাকা

চৌগাছা থানার সাবেক ওসিসহ ৪ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি:মিরর নিউজ ছবি:মিরর নিউজ
চৌগাছা থানার সাবেক ওসি আনোয়ার হোসেন। চাঁদাবাজি, মারপিট এবং বাড়িঘর লুটপাটের অভিযোগ।
যশোরের চৌগাছা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল, ২০২৬) চৌগাছা মাকাপুর গ্রামের মৃত হায়দার আলীর মেয়ে তামান্না নাজনীন লাভলী বাদী হয়ে যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা করেন।

আদালতের বিচারক রিয়াজ উদ্দিন অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পুলিশ সুপারকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা দিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বাদীপক্ষের আইনজীবী তাহমিদ আকাশ।

মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- চৌগাছা থানার সাবেক ওসি আনোয়ার হোসেন (বর্তমানে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানায় কর্মরত), সাবেক এসআই মেহেদী হাসান মারুফ (বর্তমানে ঝিকরগাছা থানায় কর্মরত), এসআই হোসেন পাটোয়ারী, ও এএসআই আব্দুর রহমান শান্ত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাকাপুর গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ওয়ারিশদের মধ্যে ৪০ বিঘা জমি বণ্টন নিয়ে বিরোধ চলছিলো। বাদীনী তামান্না নাজনীন লাভলীর অভিযোগ, তার মেজ ভাই ব্যারিস্টার একেএম মোর্তজা জোরপূর্বক জমি দখল করে নেন। পরবর্তীতে মোর্তজা তৎকালীন ওসি আনোয়ার হোসেনকে প্রভাবিত করে লাভলী ও তার আত্মীয়দের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল ওসি আনোয়ার হোসেন ও এসআই মারুফ লাভলীকে থানায় ডেকে পাঠান। সেখানে তাকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ভয়ে লাভলী ২ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। এবং ওই রাতেই মাকাপুর মুকুট ঢালির পার্কের সামনে ওসির হাতে টাকা তুলে দেন। বাকি ৮ লাখ টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন ওসি।

বাদীর দাবি, বাকি টাকা দিতে না পারায়, গত ৬ মে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা এলাকায় এসে লাভলীর ভাগ্নে সিয়ামকে বেধড়ক মারধর করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় আসামিরা লাভলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর এবং ঘর থেকে ৪০ বস্তা সিদ্ধ ধান লুট করে নিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাদের তাড়িয়ে দেয় এবং লাশ গুম করার হুমকি প্রদান করে।

বর্তমানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ অনুকূলে আসায় ন্যায়বিচারের আশায় ভুক্তভোগী পরিবারটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বলে জানান বাদি।



কমেন্ট বক্স