আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মিল্টন হাওলাদারকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি ও যান্ত্রিকযান থ্রী-হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ তারিকুল ইসলাম সোহাগ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে আমতলী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শতাধিক শ্রমিক নেতার উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আমতলীর থ্রী-হুইলার ও সিএনজি স্ট্যান্ড উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে রাহাত ফকিরের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ওই সময় থেকে থ্রী-হুইলার ও সিএনজি চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর ও লাঞ্ছিত করা হতো বলেও দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর থেকে থ্রী-হুইলার ও সিএনজি মালিক সমিতির নিবন্ধন নেওয়া হয়। পরে পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মোঃ মিল্টন হাওলাদারকে সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি করা হয়। এরপর থেকে মালিক সমিতির নেতারা সরকারি নিয়ম মেনে থ্রী-হুইলার ও সিএনজি পরিচালনা করে আসছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জালাল উদ্দিন ফকির ও তার ছেলে রাহাত ফকির বিভিন্ন সময় গাড়ি চলাচলে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তারিকুল ইসলাম সোহাগ অভিযোগ করে বলেন, গত মঙ্গলবার মিল্টন হাওলাদার বাসা থেকে সিএনজি স্ট্যান্ডে যাওয়ার পথে জালাল উদ্দিন ফকির তার দলবল নিয়ে তাকে ও সুমনকে আটক করে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে জালাল ফকিরের সহযোগী মোঃ আমিরুল ইসলামকে বাদী করে আমতলী থানায় একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয় এবং ওই মামলায় মিল্টনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, রাহাত ফকির দীর্ঘদিন ধরে থ্রী-হুইলার ও সিএনজি থেকে মাসিক চাঁদা আদায় করে আসছেন। এমনকি সড়কে গাড়ি চালাতে হলে চালকদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মিল্টন ও সুমনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, জালাল ফকির তার ছেলের সব ধরনের অপরাধে প্রকাশ্যে সহযোগিতা করছেন। আমরা তার এ কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে মিল্টন হাওলাদার ও সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মঞ্জুরুল কবির, নিজাম হাওলাদার, খলিল মীর, টিটু, রুবেল আকন, অসীম মৃধা ও নজরুল ইসলামসহ শতাধিক শ্রমিকদল নেতা, থ্রী-হুইলার ও সিএনজি চালক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন ফকির বলেন, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন মিল্টনকে টাকাসহ হাতে-নাতে আটক করেছে। তারাই আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে অহেতুক হয়রানি করা হবে না। যে কেউ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করার অধিকার রাখেন।