রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বাড়তে থাকা অস্থিরতা ও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তিনি বর্তমানে দক্ষিণ রাশিয়ার একটি সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অবস্থান করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা এবং রাশিয়ার ভেতরে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনায় ক্রেমলিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পুতিন প্রকাশ্যে উপস্থিতি কমিয়ে দিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সহকারীদের ওপরও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। তাদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এমনকি নিরাপত্তার স্বার্থে অনেকের বাসভবনেও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোভিড মহামারীর সময় থেকেই পুতিন নিজেকে জনসমাগম থেকে দূরে রাখতে শুরু করেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার বিচ্ছিন্নতা আরও বেড়েছে। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার পূর্বে ধারণ করা ভিডিও সম্প্রচার করে স্বাভাবিক পরিস্থিতির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি উঠেছে।
এদিকে মস্কোতে সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ঠেকাতে মাঝেমধ্যে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
রাশিয়ার অভ্যন্তরে পুতিনের এই অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনা ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পুতিন এখন আগের চেয়ে বেশি গোয়েন্দা সংস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে রাশিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক