কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মহাসমারোহে শপথ গ্রহণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠানে পুরো এলাকা রূপ নেয় উৎসবমুখর পরিবেশে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজনটিকে বিশেষভাবে সাজানো হয়, যেখানে সাংস্কৃতিক আবহ এবং রাজনৈতিক মহাসমাবেশ একসঙ্গে মিলিত হয়।
অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংসহ একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি ছিল। তাদের উপস্থিতি পুরো শপথ অনুষ্ঠানকে আরও গুরুত্ববহ করে তোলে।
শপথ গ্রহণের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় যাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে শনিবার আরও ১১ জন মন্ত্রীও শপথ গ্রহণ করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। নতুন মন্ত্রিসভার মাধ্যমে রাজ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানস্থল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। মঞ্চে রাখা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশাল প্রতিকৃতি এবং অন্যান্য মনীষীদের ছবি, যা পুরো পরিবেশকে এক সাংস্কৃতিক রূপ দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা দলে দলে কলকাতায় এসে উপস্থিত হন। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিজেপি কর্মীদের আগমন লক্ষ্য করা যায়, যা পুরো অনুষ্ঠানকে এক জনসমুদ্রের রূপ দেয়।
এদিকে শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুরো ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড এলাকা কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। মোট এলাকা ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে আইপিএস পর্যায়ের কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন।
পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হয় পুরো শহরজুড়ে।
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যান চলাচলেও বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা হয়। কলকাতা পুলিশ জানায়, রাত আটটা পর্যন্ত শহরে মালবাহী যান চলাচল সীমিত থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা যেমন অক্সিজেন, ওষুধ, দুধ, সবজি, ফল ও এলপিজি সিলিন্ডারবাহী যান এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়।
ব্রিগেড সংলগ্ন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এলাকা, এজেসি বোস রোডের অংশ এবং হেস্টিংস ও খিদিরপুর রুটে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
সব মিলিয়ে এই শপথ অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং নতুন প্রশাসনের প্রতি জনমনে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।