ঢাকা

জুলাই শহীদ পরিবারের ক্ষোভের মুখে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্বজন ও আহতদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নানা প্রশ্ন ও অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।

শনিবার রাজধানীতে জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলার অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শহীদ পরিবার ও আহতদের অনেকে অভিযোগ করেন, মামলার আসামিদের অনেকেই প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলেও দাবি করেন তারা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, আন্দোলনের সময় যারা হত্যাকাণ্ড ও হামলায় জড়িত ছিল, তাদের অনেককে স্থানীয়ভাবে দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান করার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে উত্তরা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুল ইসলাম রনি বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বিভিন্ন মামলার তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে দেশের বিভিন্ন থানায় যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোর সবই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় তদন্ত করা হবে। বিচার প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে তদন্তে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, উত্তরায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে মুগ্ধসহ ১০ জন হত্যার একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালে জমা পড়েছে। বাকি মামলাগুলোর তদন্তও চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরা এলাকা অন্যতম সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী সেখানে নিহত হন ৭৩ জন। তবে বিভিন্ন বেসরকারি সূত্রের দাবি, নিহতের সংখ্যা ৮১ জনের বেশি। এছাড়া আহত ও গুলিবিদ্ধ হন আড়াই শতাধিক মানুষ।




কমেন্ট বক্স