ঢাকা

কসবায় বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত, আহত অন্তত ২০

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি : সংগৃহীত ছবি : সংগৃহীত

কসবা উপজেলা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ধজনগর বাতানবাড়ি সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মানিক্যমুড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে মুরসালিন এবং একই উপজেলার মধুপুর গ্রামের মৃত মহরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন। নিহত মুরসালিন গোপীনাথপুর আলহাজ শাহ আলম ডিগ্রি কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে ধজনগর সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন বাংলাদেশি চোরাকারবারিকে লক্ষ্য করে বিএসএফ সদস্যরা গুলি ছোড়ে। এতে কয়েকজন আহত হন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় মুরসালিন ও নবীর হোসেনকে বিএসএফ সদস্যরা নিয়ে যায়। পরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আহত অন্তত ২০ জনের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম জানান, গভীর রাতে প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ২০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করেন। চোরাচালানি পণ্য নিয়ে ফেরার সময় ভারতের ৪৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের টহল দল তাদের বাধা দেয়।

তিনি আরও জানান, এ সময় বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা দুই রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়ে। এতে মুরসালিন ও নবীর হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে বিএসএফের পক্ষ থেকে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি বিজিবিকে নিশ্চিত করা হয়।

মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে লে. কর্নেল শরিফুল ইসলাম বলেন, বিএসএফ কমান্ড্যান্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিমিউল ইসলামও সীমান্তে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



কমেন্ট বক্স