ওয়াশিংটন থেকে এম জামান: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দাবি করেছেন, বিএনপি সরকারের নেয়া অর্থনৈতিক সংস্কারের কর্মসূচির সঙ্গেই আছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফসহ সকল সহযোগী সংস্থা। এই মুহুর্তে অর্থমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বসন্তকালীন সভায় যোগ দিয়েছেন। এবং এই সম্মেলনের ফাঁকে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আমি তো মনে করি সবার অ্যাটিচ্যুড (দৃষ্টিভঙ্গি) খুবই পজিটিভ (ইতিবাচক)। এক কথায় বলতে গেলে সবাই পজিটিভ। এখন প্যাকেজটা কীভাবে সেইটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।
কীভাবে ইতিবাচক জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতিবাচক ব্যাপারটা হচ্ছে তারা বাংলাদেশে বিএনপির অথনৈতিক ম্যানিফেস্ট-র (ইশতেহারের) সঙ্গে অ্যালাইনড। যেহেতু তারা অ্যালাইনড সেহেতু তারা এইখানে সাপোট দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। কিন্তু ফাইনাল প্যাকেজটা কী হবে এগুলো আলোচনা হচ্ছে। এইখানেও শেষ হবে না। এটা তো চলতে থাকবে। তাদের টিমও বাংলাদেশে যাবে না। সুতরাং এটা চলমান প্রক্রিয়া । তবে বলা যাবে ব্যাপারটা এই মুহুতেই হয়ে গেছে। এটার কোন শেষ না।
কিন্তু কবে নাগাদ আইএমএফ প্রতিশ্রুত ঋণের বাকি কিস্তি পেতে পারবে বাংলাদেশ এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকে বুঝতে চায় না। মনে হয় যে আজকের দিনে কী হলো। আজকের দিনে তো শেষ হবে না। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া এবং প্যাকেজ। কন্টিনিউয়াসলি (অবিরাম) যেটা পরিবতন হতে থাকবে। আমার ধারণা যে প্যাকেজটি হতে যাচ্ছে এটা একটা ইমপ্রুভমেন্ট (অগ্রগতি)। তারা পজিটিভলি (ইতিবাচক) মুভ করছে। আমরাও মনে করি একটা ইমপ্রুভ (অগ্রগতি)প্যাকেজ আমরা পাবো বাংলাদেশের পক্ষে।
বস্তুত, অর্থনৈতিক দূরাবস্তার মধ্যে ২০২৩ সালের আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের যে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়েছিলো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের জুনে আরও ৮০ কোটি ডলার বেড়ে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির আকার দাড়ায় ৫৫০ কোটি ডলারে। কিন্তু প্রতিশ্রুত ঋণ থেক আইএমএফ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশকে ৩৬৪ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা দিয়েছে। বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার। ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার পাওয়ার কথা ছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। তা পাওয়া যায়নি।
এই যখন পরিস্থিতি তখন চলমান বসন্তকালীন সভায় আইএমএফের কাছে অতিরিক্ত প্রায় ২০০ কোটি ডলার সহায়তার প্রস্তাব দিচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু এই ঋণ কতটা পাওয়া মিলবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ আইএমএফের বড় দুটি সংস্কারের দিক রাজস্ব ও ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। কাজেই কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, ভ্যাট কাঠামো একক করা এবং ব্যাংক খাতে সংস্কারের অগ্রগতি না হলে বাড়তি ঋণ তো দূরের কথা, চলমান কর্মসূচি থেকে কিস্তিছাড়ই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সবার সঙ্গে জ্বালানি নিয়ে আলোচনা
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ সকল সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে তেল, গ্যাস জ্বালানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার পক্ষগুলোর সঙ্গে জ্বালানি নিয়ে কী আলোচনা করছে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেকের সঙ্গে একটা কমন আলোচনা ছিলো এনার্জি ক্রাইসিস এবং এই ক্রাইসিস বাংলাদেশ কীভাবে মোকাবিলা করছে।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানিতে আমাদের অনেক টাকা ব্যয় হয়ে যাচ্ছে এবং এইখানেই আমাদের সহায়তা দরকার। বলেন, এই সম্মলেনে শুধু আইএমএফ বা ওয়াল্ড ব্যাংক নয় অনেকগুলো বহুজাতিক সংস্থা আছে। সবারই এখানে উদ্বেগের ব্যাপার হলো বাংলাদেশের মত দেশগুলোকে এই জায়গায় সহায়তা দেয়া।