আহত প্রধান শিক্ষক নুরুল আমীন রতন ও ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মিজানুর রহমান শিকদার
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এক প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান শিকদারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পেশিশক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন ও কার্যকর করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নড়িয়া উপজেলার বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমীন রতনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হামলার সূত্রপাত। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোজেশ্বর বাজার এলাকায় শিক্ষক নুরুল আমীন রতনের পথরোধ করে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। হামলায় তার ডান হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. মফিজুর রহমান স্বপন জানান, আহত শিক্ষকের ডান হাত ভেঙে গেছে এবং শরীরে একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আহত প্রধান শিক্ষক নুরুল আমীন রতন দাবি করেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরেই তার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।
উল্লেখ্য, নুরুল আমীন রতন একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হওয়ার পাশাপাশি নশাসন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানান।
এদিকে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান শিকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে কিংবা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।