মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের অংশ হিসাবে ১২ টি এফ-২২ যুদ্ধবিমান মঙ্গলবার ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝে ইসরায়েলে একঝাঁক মার্কিন যুদ্ধবিমান অবতরণ যুক্তরাষ্ট্রের এফ-২২ র্যাপ্টর যুদ্ধবিমান
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই এবার ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১২ টি এফ-২২ যুদ্ধবিমান। ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেএএন এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ১২ টি এফ-২২ যুদ্ধবিমান মঙ্গলবার বিকালে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের অংশ হিসাবে বিমানগুলো সেখানে পাঠানো হয়েছে।”
বিশ্বে সবচেয়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে আছে এই এফ-২২ র্যাপ্টর যুদ্ধবিমান। কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই এই যুদ্ধবিমান আছে। এই যুদ্ধবিমানের নানা কাজের মধ্যে আছে শত্রু ভূখণ্ডে ঢোকা এবং তাদের রাডার স্থাপণা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া।
ইরানের কাছে সম্প্রতি সামরিক কার্যকলাপ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অঞ্চলে রণতরীসহ ৫০-এর বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
চলমান পারমাণবিক আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অনবরতই হুমকি দিচ্ছেন।
তবে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাকে সতর্ক করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোকে সরানোর অভিযানের মতো ইরানে অভিযান চালানোর বিষয়টি সহজ হবে না।
সেখানে কেবল একটি হামলায় কাজ হবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়তে পারে। তবে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সীমাবদ্ধতা নিয়ে ক্রমেই হতাশ হচ্ছেন।
এমন পরিস্থিতিতেই ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তিনি ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে এফ-২২ ফাইটার যুদ্ধবিমান নামালেন।
পেন্টাগনের সতর্কতা ও জেনারেল কেইন
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সপ্তাহের শুরুতে পেন্টাগন কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এমন যুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন সেনা এবং মিত্র দেশগুলোর সেনাদের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, জেনারেল কেইন যুদ্ধ চাইছেন না ঠিকই, তবে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা “সহজেই জয় করা সম্ভব” বলে তিনি মনে করেন।
আক্রমণ নাকি চুক্তি, কোন পথে ট্রাম্প?
দ্য জেরুজালেম পোস্ট পত্রিকা মঙ্গলবার জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন কোনও চুক্তিতে যাবেন, নাকি শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলতে সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধ শুরু করবেন, অথবা তেহরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ছোটখাটো হামলা চালাবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি, গণমাধ্যমে নানা জল্পনা ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ায় এমনকি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ মানুষের মতোই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
তবে সাম্প্রতিক আলোচনার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প হয়ত একটি ‘মধ্যপন্থা’ বেছে নিতে পারেন, যেখানে ইরানের ওপর সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট মেয়াদী হামলা চালানো হতে পারে।
নিউজ ডেস্ক