নাটোরের বড়াইগ্রামে দড়ি ও বাঁশ ধরে মসজিদে যাতায়াত করা শতবর্ষী অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে স্কুলশিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল।
আব্দুর রহমান মোল্লা নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালের মে মাসে তার ব্যতিক্রমী জীবনযাপন নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তিনি আলোচনায় আসেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। পরে বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র হজ পালন করেন। দেশে ফিরে নিজ গ্রামে জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করে সেটি মসজিদের নামে দান করেন এবং নিজেই মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
চোখে দেখতে না পারার কারণে মসজিদে যাতায়াতে সমস্যা হলে তার সন্তানেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত দড়ি ও বাঁশ টাঙিয়ে দেন। প্রায় ২০০ মিটার পথ তিনি সেই দড়ি ও বাঁশ ধরে নিয়মিত মসজিদে যেতেন এবং আজান দিতেন। শুরুতে নাতিদের সহায়তায় পথচলায় অভ্যস্ত হয়ে পরে তিনি নিজেই চলাচল করতে সক্ষম হন।
নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, তিনি বড়াইগ্রামের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে তার নিষ্ঠা বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
নিউজ ডেস্ক
