ঢাকা

পাকিস্তানি বাহিনীর ৩ সহযোগী দলের নাম রেখে জামুকা বিল পাস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি : সংগৃহীত ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমদ আজম খান ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি গৃহীত হয় এবং দফাওয়ারি অনুমোদনের পর সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

বিলে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টিকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখার বিষয়টি বহাল রাখা হয়েছে।

তবে এ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান আপত্তি জানান। তিনি সংসদে বক্তব্য দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নাম এভাবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত হয়নি। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো সংশোধনী প্রস্তাব দেননি।

অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিলটির প্রতি কোনো আপত্তি নেই বলে লিখিতভাবে স্পিকারকে জানিয়েছে।

এর আগে সংসদের বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে বলেন, এভাবে রাজনৈতিক দলগুলোকে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা যুক্তিযুক্ত নয়। তারা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ও মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’—এই সংজ্ঞাগুলো নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়। সেখানে উল্লিখিত তিনটি দলকে পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সংসদে বক্তব্যে শফিকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতার পর একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি রাজনৈতিক বিভাজন এড়িয়ে গণতান্ত্রিক ধারায় রাজনীতি চালানোর আহ্বান জানান।

পরে স্পিকার জানান, বিরোধীদলীয় নেতা কোনো নির্দিষ্ট সংশোধনী না এনে সাধারণ বক্তব্য দিয়েছেন। এরপর মন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করলে সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে তা পাস হয়।




কমেন্ট বক্স