ঢাকা

‎পীরগঞ্জ স্টেশন থেকে মার্চে আয় ৫০ লাখ, তবুও সংকট কাটেনি যাত্রীসেবায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি: মিরর নিউজ ছবি: মিরর নিউজ
স্টাফ রিপোর্টার:
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন অন্যান্য জেলা সদরের বড় স্টেশনের আয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে। এই স্টেশন থেকে পীরগঞ্জ, হরিপুর ও রাণীশংকৈল—এই তিন উপজেলার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। যার কারণে স্টেশনটি প্রায় সব সময় যাত্রীতে পরিপূর্ণ থাকে।
‎পীরগঞ্জ স্টেশন থেকে নিয়মিত ৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে দ্রুতযান, পঞ্চগড় ও একতা এক্সপ্রেস; পঞ্চগড়-সান্তাহার-পঞ্চগড় রুটে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস; পঞ্চগড়-রাজশাহী-পঞ্চগড় রুটে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস এবং পার্বতীপুর-পঞ্চগড়-পার্বতীপুর রুটে আন্তঃনগর কাঞ্চন কমিউটার চলাচল করে।
‎নতুন বছরে মার্চ মাসে পীরগঞ্জ স্টেশন থেকে মোট আয় হয়েছে ৪৯ লাখ ৫২ হাজার ৯ শত ৪১ টাকা। মোট যাত্রী সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৯৪৭ জন।
‎এর মধ্যে সান্তাহার গামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস (৭৬৮) থেকে আয় হয়েছে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ২০৫ টাকা। পঞ্চগড় গামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস (৭৬৭) থেকে আয় হয়েছে ১২ হাজার ১৮০ টাকা।
‎ঢাকা গামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস থেকে আয় হয়েছে ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৮১৩ টাকা। পঞ্চগড় গামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস থেকে আয় হয়েছে ১০ হাজার ৮২৫ টাকা।
‎রাজশাহী গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস থেকে আয় হয়েছে ৪ লাখ ৯০ হাজার ৪৭৫ টাকা। পঞ্চগড় গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস থেকে আয় হয়েছে ৩৫০ টাকা।
‎ঢাকা গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস থেকে আয় হয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার ২২৩ টাকা। পঞ্চগড় গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস থেকে আয় হয়েছে ১৫ হাজার ৪২০ টাকা।
‎পঞ্চগড় গামী কাঞ্চন কমিউটার থেকে আয় হয়েছে ৪৩ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং পার্বতীপুর গামী কাঞ্চন কমিউটার থেকে আয় হয়েছে ৯০ হাজার ২০ টাকা।
‎ঢাকা গামী একতা এক্সপ্রেস থেকে সর্বোচ্চ ১৪ লাখ ১০ হাজার ১৫ টাকা আয় হয়েছে। পঞ্চগড় গামী একতা এক্সপ্রেস থেকে আয় হয়েছে ৬ হাজার ৪৩৪ টাকা।
‎পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোঃ সোহরাব হোসেন সুজন জানান, রমজান মাস হওয়ায় মার্চে আয় কিছুটা কম হয়েছে। নিয়মিত টিকিট চেকিং অভিযান পরিচালনা করা গেলে আয় আরও বাড়ানো সম্ভব এবং বিনা টিকিট যাত্রীদের সংখ্যা কমে আসবে। তবে জনবল সংকটের কারণে এই অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না।
‎পীরগঞ্জ স্টেশন আয়ের দিকে এগিয়ে থাকলেও যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে রয়েছে নানা সংকট। অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা থাকলেও তা যাত্রীর তুলনায় খুবই কম। স্টেশনের বাইরে ছাউনির নিচে বসার ব্যবস্থার টাইলস উঠে যাওয়ায় যাত্রীদের বসতে সমস্যা হচ্ছে।
‎তিন উপজেলার মানুষের যাতায়াতের চাপ থাকলেও প্ল্যাটফর্মে ফ্যান রয়েছে মাত্র ৩টি। প্ল্যাটফর্ম ছোট হওয়ায় বৃষ্টির সময় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে যায় এবং অনেকেই ভিজে ট্রেনে উঠতে বাধ্য হন।
‎স্টেশনে ২টি প্ল্যাটফর্ম থাকলেও নেই কোনো ওভারব্রিজ, ফলে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের লাইন পারাপার করতে হয়। ঢাকাগামী ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ করলে শেষের ৩ থেকে ৪টি কোচ প্ল্যাটফর্মের বাইরে থেকে যায়, এতে যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মের বাইরে ওঠানামা করতে হচ্ছে, যা বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
‎এছাড়া রাতের জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই, যা যাত্রীদের জন্য আরেকটি বড় ভোগান্তি।
‎এ অবস্থায় যাত্রী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত পীরগঞ্জ স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থা, ওভারব্রিজ নির্মাণ এবং উন্নত ছাউনির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে যাত্রীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা গ্রহণ করতে পারেন।



কমেন্ট বক্স