ঢাকা

রাউজানে জুলাইযোদ্ধার বাসায় পুলিশ পরিচয়ে লুটপাট ও নারী হেনস্তার অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

চট্টগ্রামের বায়েজিদে পুলিশ পরিচয়ে জুলাইযোদ্ধা সাদিক আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তারের সময় তার বাসায় লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সাদিক আব্দুল্লাহর মা শিরিন আক্তার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশের সঙ্গে থাকা লোকজন পরিবারের নারী সদস্যদের হেনস্তা করেছে বলেও অভিযোগে বলা হয়। 

গত শুক্রবার ভুক্তভোগী শিরিন আক্তার ১৭ জন নামধারী এবং আরও ১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় ১৭ জন অভিযুক্তের মধ্যে শহিদ, বোরহান, শাহাদাত, মহিউদ্দীনসহ রাউজান ও বাকলিয়া এলাকার একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সপক্ষে ভিডিও ফুটেজসহ লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

অভিযুক্তরা রাউজানভিত্তিক ‘বিতর্কিত’ ধর্মীয় সংগঠন মুনিরিয়া যুব তাবলিগ কমিটির সদস্য বলে জানা গেছে। এর আগে গত ৯ই এপ্রিল রাতে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার অক্সিজেন এলাকার একটি বাসা থেকে সাদিক আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যদিও পরদিন আলোচিত এই জুলাইযোদ্ধা জামিনে মুক্তি পায়। মুনিরিয়া তাবলীগের করা একটা মামলার সূত্রে সাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ। 

শিরিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তল্লাশির নামে ওই ব্যক্তিরা পরিবারের নারী সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ধাক্কাধাক্কি করে। এ সময় তারা আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা) লুট করে নিয়ে যায়। 

তিনি বলেন, পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে এভাবে লুটপাট এবং নারীদের হেনস্তা করা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। 

শিরিন আক্তারের বড় ছেলে আল আমিন বলেন, আওয়ামী লীগের দোসর মুনিরিয়া তাবলিগের লোকজন ওই রাতে পুলিশের সঙ্গে আমাদের বাসায় এসেছিল। তারা এখানে এসে লুটপাটের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ই এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এসআই ইমামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শিরিন আক্তারের বাসায় হানা দেয়। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে রাউজান থানার একটি মামলায় শিরিন আক্তারের ছোট ছেলে মহসিন কলেজের ছাত্র ও জুলাই আন্দোলনের নেতা আব্দুল্লাহ আল সাদিককে গ্রেপ্তার করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সাদিক আব্দুল্লাহ ছিলেন অন্যতম সক্রিয় মুখ। আন্দোলনের সময় তার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে তিনি মহসিন কলেজ ছাত্রশিবিরের সাথী হিসেবে পরিচিত। 

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বায়েজিদ থানার ওসি আব্দুল করিম বলেন, সাদিক আব্দুুল্লাহ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া আর কোনো ঘটনা নেই।



কমেন্ট বক্স