ঢাকা

বৈশাখী শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি : সংগৃহীত ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে পয়লা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নাম নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রং, নকশা ও লোকঐতিহ্যের নানা মোটিফে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো চারুকলা প্রাঙ্গণ।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে জয়নুল গ্যালারি ও আশপাশের এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বাঘ, প্যাঁচা, পাখি, চরকা ও অন্যান্য লোকজ প্রতীক তৈরির পাশাপাশি রংতুলির কাজ শেষ করছেন। বাঁশ-কাঠ ও কাগজের কাঠামোয় তৈরি এসব মোটিফে চলছে সূক্ষ্ম কারুকাজ।

এবারের আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে চারুকলার ৭১তম ব্যাচ। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। শোভাযাত্রায় থাকছে চার চাকার কাঠের হাতি, টেপা পুতুল, শান্তির পায়রা, মোরগ, দোতারা, মাছ, বাঘ, হরিণ, ছাগল, কাকাতুয়া, ময়ূর, ঘোড়া এবং বিভিন্ন মুখোশ।

চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিটি মোটিফের সঙ্গে বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি ও ইতিহাসের যোগ রয়েছে। বিশেষ করে টেপা পুতুল, সোনারগাঁয়ের কাঠের হাতি এবং দোতারা বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে।

শিক্ষার্থী সুমাইয়া তুষি বলেন, সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপ থাকলেও এটি তাদের জন্য বড় শেখার অভিজ্ঞতা। একইভাবে হুমায়রা খন্দকার জানান, এমন আয়োজন শিক্ষাজীবনের বাইরে সংস্কৃতিকে অনুভব করার সুযোগ তৈরি করে।

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, “আমাদের শিল্পঐতিহ্য ও ইতিহাস বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই লক্ষ্য। প্রতিটি মোটিফ রঙিন ও প্রাণবন্তভাবে তৈরি করা হয়েছে নতুন বছরকে বরণ করার জন্য।”

এদিকে ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের দেয়ালে চলছে ঐতিহ্যবাহী পটচিত্র অঙ্কন। শিল্পী নাজির হোসেন বেহুলা, গাজীর পট, বনবিবি ও অন্যান্য লোকগাথা ফুটিয়ে তুলছেন রংতুলিতে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই লোকশিল্প চর্চা করে আসছেন এবং বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই তার লক্ষ্য।

শোভাযাত্রা ঘিরে চারুকলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়ছে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার শিশুদের নিয়ে মোটিফ দেখছেন। শিশুদের চোখে বাঘের মোটিফ যেমন ভয় জাগাচ্ছে, তেমনি প্যাঁচা ও সিংহের মতো প্রতীকগুলো আকর্ষণ তৈরি করছে।

এদিকে নাম পরিবর্তন ও উৎসবের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে কিছু বিতর্ক থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনেকে বলছেন, উৎসবের মূল আকর্ষণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য, নাম নয়।

শিল্পী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চারুকলা এখন রঙিন উৎসবের প্রস্তুতিতে সরগরম, যেখানে নতুন বছরকে বরণ করতে অপেক্ষা করছে বৈশাখী শোভাযাত্রা।



কমেন্ট বক্স