ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে তুমুল বিতর্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সুকৌশলে এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছেন, যার কোনো প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।স্থানীয় সময় শনিবার একটি নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কমালা হ্যারিস কড়া ভাষায় ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ যে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন, তার পেছনে মূল কারিগর হলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কমালা আরও স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাম্প এমন একটি ইরান যুদ্ধে জড়িয়েছেন যেটি আমেরিকার সাধারণ মানুষ কখনোই চায়নি। এই সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করবে না, বরং আমেরিকান সেনাদের জীবনকেও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
কমালা হ্যারিসের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হলেও এখন পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা জবাব আসেনি। তবে বরাবরের মতোই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে পরোক্ষভাবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন রিপাবলিকান এই নেতা। সেখানে তিনি ইসরায়েলের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের সাহসিকতার গুণগান করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন যে, বিশ্বজুড়ে মানুষ ইসরায়েলকে পছন্দ করুক আর না করুক, তারা এটি ভালো করেই জানে যে ইসরায়েলিরা কীভাবে যুদ্ধে জয়ী হতে হয়। তিনি ইসরায়েলকে আমেরিকার অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তারা সাহসী, নির্ভীক ও বিচক্ষণ। যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে যখন অনেক মিত্র রাষ্ট্র পিছু হটেছে, সেখানে ইসরায়েল সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করছে এবং বিজয় ছিনিয়ে আনার সক্ষমতা দেখাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন নির্বাচনের আগে ইরান ইস্যু এবং ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনের বিষয়টি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট করে তুলছে। কমালা হ্যারিস যেখানে যুদ্ধের ঝুঁকি ও জনমতের দোহাই দিয়ে ট্রাম্পকে আক্রমণ করছেন, সেখানে ট্রাম্প নিজেকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় রক্ষক হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন। ঘটনার পর থেকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন যে, এই বাগযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের প্রকৃত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কেমন প্রভাব ফেলে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যুদ্ধের ভীতি এখন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।