ইবি প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীর ওপর বহিরাগতের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস সংলগ্ন থানা গেইট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। আহত শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তরুণ বিশ্বাস।
জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের পাশের শেখপাড়া বাজার থেকে ভ্যানে করে ফেরার পথে ইবি থানা গেইটের সামনে ১০-১২জন তাদের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় ইট-পাটকেল ও কিল-ঘুষিতে তরুণ বিশ্বাসের নাক, কান ও চোখের নিচে আঘাত লাগে এবং একটি দাঁত ভেঙে যায়।
এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইবি শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, খেলাফত ছাত্র মজলিস সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো।
বুধবার (২২ এপ্রিল) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ ও সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনা ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ব্যর্থতা এ ঘটনায় স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
আমরা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী ও সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলেন, "একটি শিক্ষাঙ্গন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও নিরাপদ পরিবেশের অবাধ বিচরণের জায়গা। সেখানে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা শুধু একটি ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ওপর হুমকি। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ ও নিরাপত্তা প্রদানে প্রশাসনের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে"।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, "ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেব না। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
ইবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
ইবি শাখা জমিয়তে তলাবায়ে আরাবিয়ার সভাপতি মাহমুদুল হাসান ও সেক্রেটারি এস এম শামিম এক বিবৃতিতে বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠে একজন শিক্ষার্থীর ওপর এমন সহিংস ও অমানবিক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও শৃঙ্খলার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।
তারা আরও বলেন, ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উদাসীনতা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও শঙ্কামুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।