মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি :ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে মাদক সেবন, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং বিশেষত বহিরাগতদের লাগামহীন কর্মকাণ্ড ও শো-ডাউনের ফলে শিক্ষার্থীরা চরম নিরাপত্তা সংকায় আছে উল্লেখ করে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর শাহরুখ লিপি প্রদান করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দ।
শিক্ষা বন্ধ পরিবেশের পথে বড় সমস্যা সমূহ চিহ্নিত করার পাশাপাশি নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের সুনির্দিষ্ট স্থান সহ উল্লেখ করে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মাহফিল খানের হাতে স্মারকলিপিটি তুলে দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ শাখার সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসাইন, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি হলো এর সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ, যা বর্তমানে বিভিন্ন ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে মাদক সেবন, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং বিশেষত বহিরাগতদের লাগামহীন কর্মকাণ্ড শো-ডাউনের ফলে শিক্ষার্থীরা চরম নিরাপত্তা সংকায়।
শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারী নির্দিষ্ট স্থানগুলো নিচে চিহ্নিত করা হলো;১. মাদক সেবনের স্থানসমূহ:
পরিত্যক্ত আলীমুল হক হলের সামনের অংশ।নজরুল চত্বর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের পুকুর পাড়।
কলেজ মহিলা হোস্টেলের উত্তর পাশের খালি জায়গা।
২. অশ্লীল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্থানসমূহ:
কাঠবাগানের বিভিন্ন নির্জন ও আড়াল করা স্থান।ও পুকুর পাড়ের বিভিন্ন স্থান।
৩. বহিরাগতদের বিশেষ দৌরাত্ম্য ও শোডাউন:
এছাড়াও, ক্লাস চলাকালীন বা ক্লাসের বিরতিতে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক দিয়ে অবাধে বহিরাগতদের প্রবেশ ঘটছে। তাদের দ্বারা সংঘটিত কর্মকাণ্ড আমাদের পড়াশোনার পরিবেশে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে:
অনাকাঙ্ক্ষিত শোডাউন: নিয়মিত বিরতিতে বহিরাগতরা উচ্চস্বরে মোটরসাইকেল চালিয়ে এবং বেপরোয়াভাবে শোডাউন দিয়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলছে এবং রনদা প্রসাদ চত্বরে দীর্ঘ সময় বহিরাগতদের অবস্থান সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলাচলে স্বাভাবিকতা হারাচ্ছে।
ইভটিজিং ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: বহিরাগতদের এই অবাধ বিচরণের ফলে বিশেষ করে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ইভটিজিং ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
শিক্ষার পরিবেশের অবনতি; বহিরাগতদের অহেতুক আড্ডা ও উচ্চবাচ্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে এবং ক্যাম্পাসের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল ফটকে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইডি কার্ড যাচাইয়ের কড়াকড়ি না থাকায় বহিরাগতরা এই সুযোগ পাচ্ছে।
এমতাবস্থায়, ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তার স্বার্থে অতিসত্বর নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি:
. ক্যাম্পাসের উল্লেখিত স্থানগুলোতে নিরাপত্তা রক্ষীদের নিয়মিত টহল বাড়ানো।
. কলেজ গেটে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে না দেওয়া।
বহিরাগতদের মোটরসাইকেল ও শোডাউন বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
. প্রয়োজনবোধে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো নজরদারি বাড়ানো।
পরিশেষে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাজীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়েছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
নিউজ ডেস্ক