প্রায় দুই দশক পর প্রথমবারের মতো গাজাকে অন্তর্ভুক্ত করে ফিলিস্তিনে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শনিবার শুরু হওয়া এই ভোটকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের প্রতীকী অংশগ্রহণ যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে তাদের প্রশাসনিক উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করবে। ২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এই অঞ্চল কার্যত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে ছিল।
গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভোট ঘিরে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা নিজেদের মতামত প্রকাশের আশা করছেন। এক বাসিন্দা আদহাম আল-বার্দিনি বলেন, জন্মের পর থেকেই তিনি নির্বাচন সম্পর্কে শুনে আসছেন, এবার অংশ নিয়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখতে চান।
অন্যদিকে, ইসরায়েল গাজা ও পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর যে আলোচনা চলছে, তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এসব আলোচনার লক্ষ্য ছিল গাজায় আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।
ইউরোপীয় ও আরব দেশগুলো গাজা, পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরকে নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে প্রস্তাবিত কাঠামোতে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের অধীনে সীমিত স্বশাসনের বিষয়ও রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনের পথ খুলে দিতে পারে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির পর এটিই প্রথম ভোট, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনৈতিক সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কর্মীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণ ইসরায়েল তাদের সংগৃহীত কর রাজস্ব আটকে রেখেছে।
দেইর আল-বালাহ শহরে প্রার্থীদের ব্যানারে সজ্জিত করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ চলছে অস্থায়ী তাঁবুতে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ভোট প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গাজার অন্য অনেক এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসের কারণে ভোট আয়োজন সম্ভব হয়নি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই নির্বাচনে ১০ লাখের বেশি ভোটার নিবন্ধিত, যার মধ্যে গাজায় প্রায় ৭০ হাজার। ফলাফল শনিবার রাত বা রবিবারের মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে।