যশোরের চৌগাছা উপজেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বৃহৎ তুলা উন্নয়ন গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামারে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের মতে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোর সফরকে কেন্দ্র করে এই দাবি আবারও আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিনের এই দাবি এখন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, চৌগাছার জগদীশপুরে অবস্থিত এই খামারটি একসময় তুলা উৎপাদন ও কৃষি গবেষণার সম্ভাবনাময় কেন্দ্র ছিল। তবে বর্তমানে জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় এর কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশাল এই খামারের অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ সম্প্রতি সংসদে খামারটির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এতে অব্যবহৃত সম্পদের সঠিক ব্যবহার হবে এবং দেশের কৃষি শিক্ষায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
সূত্র অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের ১৯ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খামারের উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ের (ইইসি) সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই খামারের মোট আয়তন প্রায় ৪৭৮ বিঘা বা ১৫৭ একর। এর মধ্যে কিছু অংশে গবেষণা, বীজ উৎপাদন, বিভিন্ন ফসল চাষ ও অবকাঠামো থাকলেও প্রায় ১৪.৭২ হেক্টর জমি বর্তমানে অব্যবহৃত রয়েছে।
খামারটিতে প্রজনন, কৃষিতত্ত্ব, কীটতত্ত্ব, মৃত্তিকা ও রোগতত্ত্ব—এই পাঁচটি বিভাগে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি এখানে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১২০ জনের থাকা-খাওয়ার সুবিধা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, খামারের পাশেই থাকা বৃহৎ মর্জাদ বাওড়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ জমি মৎস্য ও কৃষি গবেষণার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তুলনামূলকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম হওয়ায় এলাকাটি কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার জন্য উপযোগী বলেও তারা মনে করেন।
খামারের ব্যবস্থাপক যোবায়ের ইসলাম তালুকদার বলেন, এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বিন হুসাইনও একই মত দিয়ে বলেন, যশোর অঞ্চলের উর্বর মাটি কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।
জিসিবি আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর বলেন, “অবহেলিত এই অঞ্চলের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখন সময়ের দাবি।”