ইবি প্রতিনিধি : সারাদেশে ক্যাম্পাসগুলোতে সহিংসতা ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) লাল কার্ড প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসগুলোকে সহিংসতা ও আধিপত্যবাদী রাজনীতি থেকে মুক্ত করে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময় ইবি বৈছাআ'র মুখ্য সংগঠক গোলাম রব্বানী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পংকজ রায়, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব আবু সাঈদ ও বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শসহ শাখা সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে ইবি শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্যসচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ বলেন, কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সহিংস কার্যক্রম চলছে। যারা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তারা অতীতে নিষ্ক্রিয় থাকলেও এখন সক্রিয় হয়ে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গতদিন শাহবাগ তিনি বলেন, সম্প্রতি শাহবাগ থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একটি সংগঠনের মাধ্যমে মব তৈরির ঘটনা ঘটেছে। তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজের দাবি করলেও বাস্তবে তারা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করছে।
সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মুবাশ্বির আমিন বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও সুসংগঠিত বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিলাম, যেখানে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত থাকবে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেছে, যারা নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কথা বলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিভিন্নভাবে অসহযোগিতা করেছে, তারাই এখন ক্যাম্পাসে নতুন অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী হিসেবে উঠে আসছে।
তিনি বলেন, এটাই কি সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ, যেখানে ক্ষমতার পরিবর্তনের অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘাত ও অস্থিরতা ফিরে আসবে?
মুখ্য সংগঠক গোলাম রব্বানী বলেন, জুলাইয়ে প্রতিটি ক্যাম্পাসে সহিংসতার সূচনা হয়েছিল ছাত্রলীগের মাধ্যমে। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের আস্থাভাজন ওবায়দুল কাদের তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। ১৫ জুলাই তিনি বলেছিলেন, ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগই যথেষ্ট। পরবর্তীতে ছাত্র জনতা তাদের প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তিনি বলেন, এখন আবারও বিভিন্ন সংগঠনকে ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে সহিংসতা উসকে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণ ও ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে তারা সামনে থেকে তা প্রতিহত করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সম্প্রতি সিটি কলেজে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে দুইটি সংগঠন যেভাবে অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এসব সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, জুলাই আন্দোলনের যে প্রতিশ্রুতি, যে উদ্দেশ্য এবং শান্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই শান্তির পথে ফিরে আসুন। আমরা চাই না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কারও একক আধিপত্য থাকুক, কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অস্ত্রের ঝনঝনানি তৈরি হোক।