ঢাকা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নিচ্ছে। লেবানন, ইরাক ও গাজা ঘিরে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বড় শক্তিগুলোর কূটনৈতিক অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরাও রয়েছেন। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এই হামলা সংঘটিত হওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষও অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ইরান সংক্রান্ত নীতিগত অবস্থান ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তার খবরে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১১ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

কূটনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বেড়েছে। ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস যুক্তরাষ্ট্রকে পশ্চিমা মিত্রদের পাশে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে ইউরোপীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস-এর মন্তব্য ঘিরে ট্রাম্পের কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট করেছে।

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনে ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সামরিক সূত্র। এ ঘটনায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে ইসরাইল দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর বিশাল সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে, যা দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

সৌদি আরবের জেদ্দায় উপসাগরীয় দেশগুলোর শীর্ষ বৈঠকে চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ও ওপেক+ জোট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাত, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বড় শক্তিগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থান মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল ভূরাজনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়ছে।



কমেন্ট বক্স