নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নগরপাড়া সেতু থেকে নগরপাড়া বাজার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়কটিতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বালুর সঙ্গে কাদাযুক্ত মাটি ও পুরনো পিচ থেকে তোলা খোয়া মেশানোর কারণে সড়কটি তেমন টেকসই হবে না। এতে সড়কটি দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেন তারা।
স্থানীয়রা জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া-ডেমড়া সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটির নগরপাড়া সেতু থেকে নগরপাড়া বাজার পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। বৃষ্টি হলেই ওই অংশে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এই দুর্ভোগের চিন্তা করে প্রায় ৩০০ মিটার বেহাল সড়কটিকে ইউনি ব্লক রাস্তায় রূপান্তরের জন্য এলজিইডি ৫০ লাখ ৮২ হাজার ৭১১ টাকা বরাদ্দ দেয়। কাজটির দায়িত্ব পান সালাউদ্দিন নামের এক ঠিকাদার। সালাউদ্দিন আবার কাজটি দেন সাব-ঠিকাদার নূর উদ্দিনকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরপাড়া সেতু থেকে নগরপাড়া বাজার পর্যন্ত সড়কটি খুড়ে প্রায় ২০ দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এতে দুর্ভোগে পড়ে এলাকার বাসিন্দারা। তারা জানান, কাজটি শুরু করলেও সড়কটিতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরনো সড়ক খুড়ে বালুর সঙ্গে কাদাযুক্ত মাটি ও পুরনো পিচ থেকে ওঠানো খোয়া মেশানো হচ্ছে। এসব পুরনো ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারণে সড়কটি তেমন টেকসই হবে না।।
ফলে অতি দ্রুত সড়কটি আগের মতো বেহাল হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সরকারের লাখ লাখ টাকা বিফলে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন মিয়া, আনোয়ার হোসেন, আক্কাস আলী, রাসেল আহমেদসহ অনেকেই বলেন, আমরা চাই সড়কটি নির্মাণে যেন টেকসই হয়, যেন নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার না করা হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার নুরুদ্দিন বলেন, আমি নিয়ম অনুসারেই সড়কের কাজ করছি। ময়লাযুক্ত মালামাল ফেলে দিয়ে ভালো মালামাল ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকার মানুষ না বুঝে আমাদের দোষারোপ করছে। পুরনো মালামালের পরে নতুন মালামাল দেওয়া হবে। পরে ইউনি ব্লক দিয়ে রাস্তাটির কাজ সম্পন্ন করা হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, নগরপাড়া বাজারের সড়কের অংশটুকুতে পানি জমে বিধায় জিওভি মেইনটেন্সের আওতায় কাজটি করা হচ্ছে। এখানে পুরনো মালামাল ধরা রয়েছে। তবে নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজটি করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সবসময় সড়কটির কাজ তদারকি করছি।