বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নিজ জেলা নোয়াখালীতে নবঘোষিত কমিটিকে ঘিরে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগ তুলে তাকে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ, ককটেল বিস্ফোরণ, সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগে জেলা শহর মাইজদী কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি মসজিদ মার্কেট এলাকায় পৌঁছালে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষোভকারীরা শহরের মাইজদী টাউন হল মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ইটের আঘাতে এক পথচারী আহত হন, তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে বিক্ষুব্ধ নেতারা নোয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে জেলা ছাত্রদলের নবঘোষিত কমিটির সহ-সভাপতি সাহেদ চৌধুরী বাবুর নেতৃত্বে একাধিক নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পদত্যাগ ও সংহতি জানানো নেতাদের মধ্যে ছিলেন—সাহেদ চৌধুরী বাবু, মো. ওয়াসিম, মো. আকবর হোসেন, জিহাদুল ইসলাম সজীব, আনোয়ার হোসেন রকি, তারেক নুর, ইয়াসিন আরাফাত শুভ, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সামাদ রিজভী, আফরাতুল কাউসার, সুজন হাম্মাদি এবং আরিফুল হক হৃদয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সংগঠনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে একতরফাভাবে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করেছেন, যা সংগঠনের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করেছে।
তারা অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে সবার অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। একইসঙ্গে দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন বিক্ষুব্ধ নেতারা।
নিউজ ডেস্ক