নবনিযুক্ত উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ক্যাম্পাসে আন্দোলন আরও জোরদার করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে পূর্বঘোষিত ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি পালনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনেও তালা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারছেন না।
গত বৃহস্পতিবার সরকার মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এ নিয়োগের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু নেতা-কর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, এটি সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা আলাদা। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত।
ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় ঢাকা-শিমুলতলী সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। শুক্রবারও আন্দোলন অব্যাহত থাকে। পরে নতুন উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ব্যানার টানানো হয়।
রোববার ‘নতুন ভিসিকে লাল কার্ড’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— নবনিযুক্ত ভিসি মোহাম্মদ ইকবালর নিয়োগ বাতিল, ডুয়েটের নিজস্ব শিক্ষককে ভিসি নিয়োগ এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ভিসি রোববার সন্ধ্যায় যোগদান করলেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তিনি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় সভা করেন।
ডুয়েটে চলমান আন্দোলন ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরর পাল্টাপাল্টি অবস্থানও সামনে এসেছে। তবে ডুয়েটিয়ানদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দলীয় রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক