বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগের সরকারের সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া একাধিক সচিবের মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসনে অন্তত ১৩টি সচিব পদ শূন্য রয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব পদ।
এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনে সচিব পদমর্যাদার তিনটি সদস্য পদ খালি রয়েছে। পাশাপাশি ভৌত অবকাঠামো, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য পদেও কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বে নেই।
জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব পদেও শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ পদ পূরণে সরকার নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। তবে অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগের উদ্যোগে প্রশাসনের ভেতরে কিছু অসন্তোষের খবর পাওয়া গেছে।
এরই মধ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী-কে এক বছরের চুক্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া-এর চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া আরও নয়জন সিনিয়র সচিবের মেয়াদ বাতিল করা হয়। একই দিনে আগের সরকারের সময় সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।